বড়পুকুরিয়া মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ১৫ জানুয়ারি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠন শুনানি ফের পিছিয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত এ মামলার অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ এএইচএম রুহুল ইমরান আসামিপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে ১২ নভেম্বর চার্জ শুনানির জন্য গত ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু বেগম জিয়া অসুস্থ থাকায় ও কারা হেফাজতে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আজ তাঁর আইনজীবীরা চার্জ শুনানি মুলতবির আবেদন জানান।

চলতি বছরের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, একেএম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এসআর ওসমানী, পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মইনুল আহসান, বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ঠিকাদার সুজু কোল মাইনিং গ্রুপ কনসোটিয়ামের পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ছিল ১৬ জন। তবে এরইমধ্যে যুদ্ধাপরাধের অপরাধে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর এবং ব্যারিস্টার আমিনুল হক মারা যাওয়ায় আসামির সংখ্যা কমে ৯ জনে নেমেছে। নিজামী-মুজাহিদ-আমিনুল ছাড়াও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান ভূইয়া এবং সাইফুর রহমান, এমকে আনোয়ার ও এম শামসুল ইসলামও এ মামলার আসামি ছিলেন। তারাও মারা গেছেন।

সরকারের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি সাধনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ওই বছরের ৫ অক্টোবর পুলিশ তদন্ত করে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

এ মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট বেঞ্চ বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন।

Facebook Comments