‘প্রতিবাদী কণ্ঠকে নির্মূল করে হিটলারি শাসন বজায় রাখতে চায় সরকার’

প্রতিবাদী ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে আওয়ামী সরকারের দেশবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদ করায় আবরারকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।’

সোমবার (৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হত্যাকারীদের হাতে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠকে নির্মূল করে নিজেদের হিটলারি শাসন বজায় রাখতে চায়। তবে, জনগণ তাদের এই মনোবাঞ্ছা কোনোদিনই পূরণ হতে দেবে না। মত-প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে অতীতের সংগ্রামী ঐতিহ্যের ধারায় বাংলাদেশের মানুষ যেকোনও ত্যাগ স্বীকার করতেও দ্বিধা করবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘৩০ ডিসেম্বরের ‘মধ্যরাতের মহাভোট ডাকাতি’র নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের মাত্রা যেন লাগামহীন হয়ে গেছে। স্বৈরাচার সরকার দেশের প্রতিবাদী মানুষের রক্তে হাত রঞ্জিত করে দেশকে ভীতির কালো মেঘে ঢেকে দিয়েছে। যেন সরকারের অপকর্ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ লিখতে, বলতে কিংবা টুঁ শব্দ উচ্চারণ করতেও সাহস না পায়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘বিশ্বের গণধিকৃত সব স্বৈরাচারকে টেক্কা দিয়ে ‘জনসমর্থনহীন’ আওয়ামী সরকার এখন মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে এখন জঙ্গলের শাসন চলছে বলেই একজন মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদে ঘরে ফেরার নিরাপত্তাটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা এক মৃত্যু উপত্যকায় বসবাস করছি।’

আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের আশকারায় অপরাধীরা দেশব্যাপী লাগামহীন খুন-জখমের খেলায় আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনের হিংস্র রূপ দেশের মানুষকে বোবা করে ফেলেছে। অজানা আশঙ্কা, আতঙ্ক আর ভয়ের এক বিষাদময় পরিবেশ মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।’

Facebook Comments