অসুস্থ, তবুও মনোবলে অটুট বেগম খালেদার জিয়ার

শারিরীক অবস্থা বিবেচনা করে যেকোনও মূল্যে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদার জিয়ার মুক্তি চায় বিএনপি। সম্প্রতি সবচেয়ে তৎপর দেখা গেছে দলের সংসদ সদস্যদের। দুই দফায় সংসদ সদস্যরা দেখা করেছেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। তারা দলের প্রধানের সঙ্গে তার মুক্তির বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে ৭৫ বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী তার মনোবল এখনও অটুট।

সম্প্রতি সময়ে প্যারোলে মুক্তি বিষয়টিতে তিনি ঘোরবিরোধী। পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক কোনো ‘সমঝোতা’ কিংবা ‘আপসকামিতা’র মধ্য দিয়ে কারাবন্দিত্ব ঘোচাতে চান না বেগম খালেদা জিয়া। অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া মনে করছেন, একমাত্র আইনি পথেই তাঁর মুক্তি প্রাপ্য।

বুধবার (২ অক্টোবর) বিকেলে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সাক্ষাত করেন দলটির সংসদীয় মুখপাত্র, যুগ্ম-মহাসচিব ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য উকিল আব্দুস সাত্তার ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম।

পরের দিন (৩ অক্টোবর) বিকেলে তার সাথে সাক্ষাক করেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমান জাহিদ, বগুড়া-৬ আসনের এমপি জিএম সিরাজ, বগুড়া-৮ আসনের মোশাররফ হোসেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

তারা প্রত্যেক খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থা দেখে আবেগী হয়ে যান। ১৮ মাস ধরে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখে আসতে বলেন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে অনুরোধ করেন।

খালেদা জিয়ার সাথে হঠাৎ করে সাত এমপির সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এই সাক্ষাৎকে সমঝোতার অংশ হিসেবে বলার চেষ্টা করছেন। তবে বিএনপিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েই এমপিরা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো রহস্য কিংবা সমঝোতার বিষয় নেই। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও তার মুক্তির বিষয়টি নতুনভাবে দলীয় এমপিদের মাধ্যমে ফোকাস করতেই এই সাক্ষাতের উদ্যোগ।

বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, সমঝোতার কোনো প্রশ্নই এখানে নেই। আমরা সাতজন এমপি আমাদের নেত্রীর সাথে দেখা করে তার দোয়া ও দিকনির্দেশনা পেতে চেয়েছিলাম। যার অংশ হিসেবে আমরা প্রথমে স্পিকারের সাথে কথা বলি। স্পিকার আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পার্লামেন্টে আমাদের কথা হয়। তিনি আবেদন করতে বলেন। আবেদনে আমাদের সব এমপির স্বাক্ষর রয়েছে। যেহেতু একসাথে চারজনের বেশি দেখা করার অনুমতি নেই, সে কারণে আমরা দুই ভাগে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করি।

রাজনৈতিক আপসের ব্যাপারে অনেক আগে থেকেই কঠোর শহীদ জিয়ার সহধর্মিনী। রুমিন ফারহানা বলেন, আপস শব্দটি বেগম খালেদা জিয়ার অভিধানে নেই। যারা এসব প্রচার করছেন, তারা আসলে দুঃস্বপ্ন দেখছেন। বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ, কিন্তু তার মনোবল এখনো অটুট। এক-এগারোর সময় তিনি বলেছিলেন- ‘এই দেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না। দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই।’

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া হেঁটে জেল খানায় গেছেন। অথচ তিনি এখন দাঁড়াতে পর্যন্ত পারেন না, একা কোনো পোশাক পরতে পারেন না, কিছুই খেতে পারেন না। সরকারকেই এই দায় নিতে হবে।’

Facebook Comments