শিগগিরই আন্দোলন, সিংহের মতো একদিন বাঁচেন, রাজপথে নামুন’

আন্দোলন সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘পৃথিবীতে যদি একদিন বাঁচতে হয়, সিংহের মতো একদিন বাঁচেন। কাপুরুষের মতো হাজার বছর বেঁচে লাভ নেই। আপনারা বার বার হাত তুলে বলছেন- ‘নেত্রীর মুক্তি চাই’, নেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন করবেন? কিছু দিনের মধ্যেই আন্দোলন দৃশ্যমান। যখন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, আমরা আশা করবো আপনারা সংগ্রামে নামবেন।’
নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘নেতারা যার যেখানে বাড়ি সেখানে কর্মীদের পাশে থেকে আন্দোলন করবেন।’
রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজশাহী নগরীর মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন ঈদগা রোডে বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আপনারা কার কাছে চান? আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইতে পারি না। প্রতিজ্ঞা করতে পারি, প্রতিশ্রুতি দিতে পারি চেষ্টা করতে পারি আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।’
‘আমরা যদি প্রতিজ্ঞা করে রাস্তায় নামি তাহলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবো। অবশ্যই বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি হবেন। খালেদা জিয়ার অপর নাম গণতন্ত্র, এই গণতন্ত্রের লড়াই শুরু হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই দৃশ্যমান। এই গণতন্ত্রের আন্দোলনে বাধা দিলে বাধবে লড়াই। আমরা শুধু মাইর খাওয়ার জন্য জন্ম নেই নাই। আমরা এই অস্ত্র হাতে ৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছিল যুদ্ধ করে। কার ডাকে? জিয়াউর রহমানের ডাকে।’
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যখন ডাক দিলেন তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন না। যাদের সেদিন যুদ্ধ ঘোষণা দেয়ার কথা, তারা করেন নাই। এই কারণেই সেদিন বজ্র কণ্ঠে ভেসে উঠেছিল- ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’। দল মত নির্বিশেষে আমরা সেদিন যুদ্ধে নেমে ছিলাম। আমরা আবার সেই গণতন্ত্রের যুদ্ধে নামলাম। সত্তরের ভোটের ফলাফল যদি পাকিস্তান মেনে নিত তাহলে একাত্তরের যুদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন হতো না। সেদিন গণতন্ত্রের রায় মেনে নেয়নি বলেই আমাদেরকে যুদ্ধ করতে হয়েছিল। সেদিন আমাদের হাতে অস্ত্র ছিল না, আমাদের ওপর যারা হামলা করেছে তাদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছি।’
‘পুলিশ বাহিনী যে যখানে আছেন দেশের স্বার্থে জনগণের দেশ বাংলাদেশ আপনিও জনগণের একজন। পেশাগত ভাবে যাই থাকেন এই জনগণের আন্দোলনে যোগ দিন।’
পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জনগণের মুখোমুখি হবেন না। কারণ দেশের ক্ষতি হলে আপনারও ক্ষতি, আমারও ক্ষতি, সাধারণ মানুষেরও ক্ষতি। দেশের মালিক জনগণ, তাই জনগণের কথা আপনাদের শুনতে হবে, তাদেরকে সম্মান করতে হবে। যেই ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য, ক্ষমতা রাখার জন্য চেষ্টা করছেন, আমার তো মনে হয় চারিদিকে যে আওয়াজ তাতে তিনি বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।’
ক্যাসিনো অভিযান পরিচালনা নিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘মাত্র ৩টা রাস্তার টোকাই তাদের কাছে যদি এত টাকা থাকে। তাহলে যারা পতাকাবাহী তাদের কাছে কত টাকা আছে? ওই যে পার্লামেন্টে যায় আসে তাদের কাছে আছে কত টাকা? লক্ষ লক্ষ টাকা বিদেশে পাচার করেছে। গ্রাহক ব্যাংকে গেলে টাকা দিতে পারে না ব্যাংকগুলো। কোনও বিনিয়োগ নাই। ওই যে দরবেশ আছে মন্ত্রিসভায় শেয়ারমার্কেটের খবর কি? হলমার্কের হাজার কোটি টাকার খবর কি? বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে যে চুরি হয়ে গেল সেই টাকা উদ্ধার হচ্ছে না কেন?’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এগুলো জনগণের টাকা, এই টাকার হিসাব নিবে জনগণ। কিন্তু এই হিসাব দেয়া সম্ভব নয়। রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া এই সরকারের আর কোনও বিকল্প পথ নাই। এরা দিনের বেলায় পালাতে পারবে না।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বাবু গয়েশ্বর বলেন, ‘আজ সতের কোটি মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। চায় না শুধু একজন তার নাম শেখ হাসিনা। যারা পোশাক পরে (পুলিশ) আজকে সমাবেশে আসতে বাধা দিয়েছে তাদের জন্য শেখ হাসিনা আজ প্রধানমন্ত্রী। তিনি জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী হন নাই, আর কখনো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নেই।’
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হোসেন মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ বক্তব্য রাখবেন।
আরও উপস্তিত ছিলেন- রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ-এমপি, নাদিম মোস্তফা, শ্যামা ওবায়েদ, শাহিন শওকত, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, অ্যাড মাহদুদা হামিদা, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুরতাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সসম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসেন, তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, চেয়ারপাসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ

Facebook Comments