জি এস থেকে পদত্যাগ চাওয়ায় ভিপি নুরকে দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি রাব্বানীর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানীর পদত্যাগ দাবি করেছেন ভিপি নুরুল হক নুর। আর পাল্টা হিসেবে ডাকসুতে ষড়যন্ত্র হলে এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জিএস গোলাম রাব্বানী। আজ সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে জানতে চাইলে উভয় নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেন।

ভিপি নুরের দাবি, ডাকসুর সভাপতি চাইলে নৈতিক স্খলনের দায়ে যে কাউকে বরখাস্ত করতে পারেন। ইতোমধ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের দায়ে গোলাম রাব্বানীকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ যদি এ বিষয়ে আপসহীন হয় তাহলে ডাকসু কেন পারবে না?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান বলেছেন, কোনও ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা একক কোনও বিষয়ে নয়, ডাকসু চলবে এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী।

অন্যদিকে, ডাকুসর জিএস গোলাম রাব্বানীর দাবি, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি সংগঠনের (ছাত্রলীগ) পদ হারিয়েছেন। এবার যদি তার ডাকসুর পদ নিয়ে ষড়যন্ত্র হয় তাহলে এর দাঁত ভাঙা জবাব দেবেন বলে প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

জিএস পদে রাব্বানী বহাল থাকলে খারাপ দৃষ্টান্ত হবে: নুর

ভিপি নুরুল হক নুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটি ছাত্রসংগঠনে (ছাত্রলীগ) সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে নিজ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছাত্র সংগঠনটি যদি একজন অন্যায়কারীর সঙ্গে আপস করতে না পারে, ডাকসু তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে না কেন? তাছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সকল পথের মানুষই ধারণ করেন। সেখানের ছাত্র সংসদে একজন দুর্নীতি পরায়ণ লোক, যাকে নৈতিকস্খলনের দায়ে বাদ দেওয়া হয়েছে তিনি ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন এটা মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র প্রতিনিধিরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আইডল বা রোল মডেল হবেন। কিন্তু তারাই যদি এই ধরনের বিতর্কিত কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে স্বপদে বহাল থেকে যান, তাহলে তা সারাদেশের ছাত্রদের জন্য একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যেখানে তার দল (আওয়ামী লীগ) ব্যবস্থা নিতে পারলো, তাহলে আমরা কেন নিতে পারবো না?

ডাকসুর সভাপতি চাইলে যে কাউকে বরখাস্ত করতে পারেন উল্লেখ করে ভিপি নুর আরও বলেন, ‘যেহেতু ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এই ক্ষমতা দেওয়া আছে তাই তিনি চাইলে যে কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রয়োজনে তিনি ডাকসু ভেঙেও দিতে পারেন। আবার কাউকে বরখাস্ত করতে পারেন। কিন্তু তার উচিত ছিল এ ঘটনা যখন গণমাধ্যমে আসে, তখন সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু, তার সদিচ্ছার অভাবে তিনি তা নিতে পারেননি। আমাদের পক্ষ থেকে উপাচার্যকে মৌখিকভাবে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কিন্তু, তিনি আমাদের বলেছেন ডাকসুর গঠনতন্ত্রে যেভাবে আছে সেভাবে দেখবেন।

ডাকসু নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে ভর্তি করা হয়েছে তা উল্লেখ করে নুর বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে, নির্বাচনের সময় ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে অনিয়ম, জালিয়াতি করে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আটজন ডাকসুতে নির্বাচিতও হয়েছে। এই ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে ব্যবসায় অনুষদের ডিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাই আমার পক্ষে থেকে জিএস, কোষাধ্যক্ষ এবং জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া সাতজন প্রতিনিধির পদত্যাগ দাবি করছি।’

ষড়যন্ত্র হলে দাঁতভাঙা জবাব দেবেন রাব্বানী

এ বিষয়ে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংগঠন থেকে আমাদের যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখন যদি ডাকসুতে ষড়যন্ত্র হয়, তাহলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। ভিপি নুরকে বলবেন এসব কথা না বলতে। ছাত্রলীগের বিষয়টা আমাদের দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয়। যেখানে আমি শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, সেখানে আমার পদত্যাগ চাওয়াটা হলো গণমাধ্যমকে আকৃষ্ট করা।

নিজেকে আইনজীবী দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনও দালিলিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি। আমি আইনের ছাত্র এবং একজন ল’ইয়ার হিসেবে যেটা জানি কোনও প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী বলা যাবে না। ডাকসু থেকে আমার পদত্যাগের দাবিটি অবান্তর।

উপাচার্যের বক্তব্য

ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। আর ডাকসুর যে কোনও বিষয় আমাদের গঠনতন্ত্র এবং রীতিনীতি অনুযায়ী করতে হবে। এখানে কোনও ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা একক কোনও বিষয় নয়।’

বামজোটের একই দাবি

এদিকে ডাকসু থেকে গোলাম রাব্বানীকে অপসারণ করতে দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ করে এ দাবির কথা জানান তারা। একইসঙ্গে পুনরায় ডাকসু নির্বাচন দেওয়ার দাবিও জানান তারা। এদিকে ৩৪জন শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে ভর্তি প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের বহিষ্কার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন তারা।

Facebook Comments