রংপুর সদর-৩ উপনির্বাচন চমক দেখাতে চায় বিএনপি

রংপুর সদর-৩ আসনে উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি প্রার্থীরা। এ আসনের এমপি জাতীয় পার্টির এরশাদ মৃত্যুর পর শূন্য হওয়ায় শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে আসন ধরে রাখার চেষ্টা ও কৌশল চালাচ্ছে তারা। যদিও প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের অনেকের মাথায় রয়েছে মামলা। তারপরও তারা এসবকে উপেক্ষা করে নির্বাচনের মাধ্যমে চমক দেখাতে চায় রংপুরে। নগরজুড়ে পোস্টার, ব্যানারে ভোট প্রার্থনা করে জানাচ্ছে শুভেচ্ছা। যারা প্রার্থী হয়ে গণসংযোগ শুরু করেছিলেন তারা হলেন, রংপুর মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্‌ফর হোসেন, সাবেক জেলা সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা, সহ-সভাপতি কাওসার জামান বাবলা, সামসুজ্জামান সামু, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, জোটের শরিক পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান রিটা রহমান। এ ছাড়া দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন-নবী খান সোহেলের নামও রয়েছে নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। যদিও বিএনপির বিশাল অংশ চাইছিলেন এ আসনে প্রার্থী হোক মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্‌ফর হোসেন।

কিন্তু গত ২রা সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মোজাফ্‌ফর। গতকাল বাদ আসর তার পূর্বশালবন বাসভবনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে নবীন-তরুণ নেতাকর্মীরা চাইছেন এ আসন দখল নিতে কেন্দ্রীয় নেতা সোহেলের বিকল্প কেউ হতে পারে না এমনটি মনে করছেন। গত ১৪ই জুলাই এ আসনের এমপি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর এ আসন শূন্য হওয়ায় বিএনপি দখল নিতে সব ধরনের কৌশল ও চেষ্টা করবে বলে দলের সূত্র জানায়। সূত্র মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, বিএনপি ঐক্যজোটের পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান রিটা রহমান। রংপুরের রাজনীতিতে বিএনপি ঐক্যজোটের প্রার্থী রিটা রহমানকে এ নির্বাচনের পূর্বে কেউ মাঠে দেখেননি। তাই হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো অবস্থায় তিনি প্রার্থী হন। তৎকালীন সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য ছিল, ঐক্যের স্বার্থে রিটা রহমানকে প্রার্থী করতে হয়েছে। রংপুরের এ আসনে রিটা রহমান প্রার্থী হওয়ায় বেঁকে বসেছিলেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। অনেকে নির্বাচনে রিটা রহমানকে সহযোগিতা না করে নীরব ভূমিকায় ছিলেন। তারপরও এরশাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিটা রহমান (ধানের শীষ) ৫৩ হাজার ৮৯ ভোট পেয়ে অনেকটা চমক সৃষ্টি করেছিলেন। ওই সময় আলোচনায় গুঞ্জন ছিল যদি বিএনপি’র কোনো প্রার্থী দেয়া হতো, তাহলে হয়তো বা আরো অনেক বেশি ভোট পেতো। সেই গুঞ্জনকে কাজে লাগিয়ে হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো প্রার্থী না দিয়ে বিএনপি নিজস্ব শক্ত প্রার্থী দেয়ার কথা ভাবছে দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে কেন্দ্রের হাইকমান্ডের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। রংপুরের রাজনৈতিক শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে বিএনপি দলীয় যুগ্ম মহাসচিব রংপুরের সন্তান হাবীব- উন- নবী সোহেলকে এ আসন দিতে পারে এমন গুঞ্জন রয়েছে। এর কারণ হিসেবে জানা যায়,
দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা সোহেল এবং তার সমর্থকরা সব সময় রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়। তাই তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে রংপুরের বিএনপি’র ঘাঁটিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে নির্বাচনে প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে রংপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, দলের জন্য প্রয়োজন এমন নেতাকেই দলীয় হাইকমান্ড প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। রংপুর বিএনপি’র মহানগর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, সরকার ভোট প্রদানের অধিকার কেড়ে নেয়ায় ভোটাররা তেমন ভোট দিতে আগ্রহী নয়। তারপরও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ও জনগণের অধিকার আদায়ে নির্বাচন করতে হবে। খালি মাঠে কাউকে গোল দিতে দেয়া যাবে না। তিনি মনে করেন, স্বচ্ছ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রংপুরে বিএনপি’র প্রার্থীই জয়ী হবে।

mzamin

Facebook Comments