আমার পুত্রবধূ মিন্নিই মূল ভিলেন : সংবাদ সম্মেলন রিফাতের বাবা

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ।

আজ শনিবার রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করে আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ কাঁদতে কাঁদতে বলেন নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে দ্রুত গ্রেফতার করুন। তাকে গ্রেফতার করলে আমার ছেলে হত্যার মূল রহস্য বের হয়ে যাবে। আমার ছেলে হত্যার পেছনে পুত্রবধূ মিন্নির হাত রয়েছে। আসলে আমার পুত্রবধূই ভিলেন। তার সহযোগিতায় আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ লিখিত বক্তব্যে ১০টি কারণ উল্লেখ করে জানিয়েছেন, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি তার ছেলে রিফাত হত্যার সাথে জড়িত। তার দাবিগুলো হচ্ছে-০১. নয়নের সাথে বিয়ের ঘটনা সে ও তার পরিবার সুকৌশলে গোপন করে গেছে। ০২. বিয়ে বলবৎ থাকা অবস্থায় শরিয়া বহির্ভূতভাবে মিন্নি তার ছেলেকে বিয়ে করেছে। ০৩. রিফাতের সাথে বিয়ের পরেও মিন্নি নয়নের বাসায় আসা-যাওয়া ও যোগাযোগ রক্ষা করতো। ০৪. রিফাত হত্যার আগেরদিন ২৫ জুলাই মিন্নি নয়নের বাসায় গিয়েছিল। ০৫. মিন্নি প্রতিদিন একা একা কলেজে গেলেও ২৬ জুলাই রিফাতকে ডেকে কলেজে নিয়ে গেছে। ০৬. রিফাত তার স্ত্রী মিন্নিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে চলে আসতে চাইলেও মিন্নি কৌশল করে কালক্ষেপণ করেছে। ০৭. রিফাতকে যখন রিশান ফরাজী দলবল নিয়ে জাপটে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ছিল। ০৮. রিফাতকে কোপানোর সময় মিন্নি আসামিদের জাপটে ধরলেও মিন্নিকে আসামিরা কোপায়নি। ০৯. আহত রিফাতকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা না করে মিন্নি তার জুতা ও ব্যাগ ওঠাতে ব্যস্ত ছিল। ১০. আহত রিফাতকে বরিশাল নেয়া হলেও মিন্নি তার সাথে যায়নি।

তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করে বলেন, পুলিশ কেন এখন পর্যন্ত মিন্নিকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে না? তার বিশ্বাস, পুলিশ মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের সত্যতা তথা প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নয়ন বন্ডের সাথে তার বিয়ে হয়নি। জোরপূর্বক কাবিনে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের দাবি জানিয়ে তিনি জানান, খুনিদের বাঁচানোর জন্য তাকে জড়ানো হচ্ছে। তিনিও রিফাত হত্যাকারীদের বিচার চান।

Facebook Comments