খুনের মামলায় মুক্তি পেলেন আ,লীগের সাবেক এমপি রানা

 

দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা।

প্রায় তিন বছর পর মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

এর আগে সকালে সুপ্রিম কোর্টের জামিন আদেশের কাগজপত্র কারাগারে আসার পর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

টাঙ্গাইল কারাগারের জেলার আবুল বাশার পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে গতকাল সোমবার টাঙ্গাইলের দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এই আদেশের পর রানার কারামুক্তিতে আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানান তার আইনজীবীরা।

টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ হত্যা মামলাতেও জামিন পেয়েছেন রানা।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার তিন দিন পর স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে।

তদন্ত চলাকালে ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট এমপি আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ট কর্মী আনিসুর রহমান রাজা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। পরে ২৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের কাছে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

অপর আসামি মোহাম্মদ আলী গ্রেফতার হন একই বছরের ২৪ আগস্ট। তিনি ৫ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উভয় আসামির জবানবন্দিতে ফারুক আহমদ হত্যাকাণ্ডে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের তৎকালীন এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার তিনি ভাই— কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও টাঙ্গাইল জেলা বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকনের জড়িত থাকার কথা বেরিয়ে আসে।

এরপর ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এমপি রানা, তার তিন ভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাকসুদা খানমের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি রানা। অবশেষে চলতি বছর তিনি সব মামলাতেই জামিন পান।

এই হত্যা মামলায় এখনো ৭ আসামি পলাতক। এমপি রানা মুক্তি পেলেও বাকি তিনজন কারাগারে এবং বাকি তিনজন জামিনে আছেন

Facebook Comments