২০ বছর আগের সেই স্মৃতি ফেরাতে পারবে বাংলাদেশ?

 

১৯৯৯ সালের ৩১ মে। দিনটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অবিস্মরণীয় অর্জনের স্বাক্ষী হয়ে আছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েই সেদিন বড় এক হইচই কাণ্ড ঘটিয়েছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বাংলাদেশ। হারিয়ে দিয়েছিল মহাপ্রতাপশালী পাকিস্তানকে। আনকোরা বাংলাদেশের কাণ্ডে স্তম্ভিত হয়েছিল পুরো ক্রিকেট দুনিয়া।

তা হওয়ারই কথা। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার-পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপে বিধ্বংস্তী তিন ফাস্ট বোলার। সঙ্গে সাকলায়েন মোস্তাক, আজহার মাহমুদ, শহীদ আফ্রিদিদের সমন্বয়ে পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপকে মনে করা হচ্ছিল বিশ্বসেরা।

পাশাপাশি ব্যাটিং লাইনআপে সাঈদ আনোয়ার, ইজাজ আহমেদ, ইনজামাম-উল-হক, সেলিম মালিক, মঈন খানদের মতো বিশ্ববরেণ্য সব ব্যাটসম্যান। দুয়ের সমন্বয়ে পাকিস্তান ছিল ১৯৯৯ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠে নিজেদের ফেভারিট হিসেবে প্রমাণও করেছিল ওয়াসিম আকরামের পাকিস্তান। দুর্দমনীয় সেই পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয় আনকোরা পুঁচকে বাংলাদেশ।

এবং সেটা ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়েই। ওয়াসিম, ওয়াকার, শোয়েবদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ গড়ে ৯ উইকেটে ২২৩ রানের পুঁজি। বাংলাদেশের এই মামলি সংগ্রহ তুরি মেরে উড়িয়ই দেবে পাকিস্তান-এমনটাই বলাবলি করছিল সবাই। কিন্তু বাংলাদেশ ফিল্ডিং করতে নামার পরই পাল্টে যেতে থাকে বোদ্ধাদের ধারণা।

খালেদ মাহমুদ সুজন, সাইফুদ্দিন, মনজুরুল ইসলাম, নাঈমুর রহমানদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মহাশক্তিধর পাকিস্তান জয় থেকে ৬৩ রান দূরে থাকতে মাত্র ১৬১ রানেই অলআউট হয়ে যায়। বাংলাদেশ পায় ৬২ রানের অবিস্মরণীয় জয়।

এর পর বিশ্বকাপে আর কখনোই মুখোমুখি হয়নি বাংলাদেশ-পাকিস্তান। কি কাকতাল! দীর্ঘ ২০ বছর পর সেই ইংল্যান্ডের মাটিতেই বিশ্বকাপে আবার দেখা হচ্ছে দুদলের। পার্থক্য এতটুকু, নর্দাম্পটনের পরিবর্তে আজকের ম্যাচটা লর্ডসে।

ভেন্যু আলাদা হলেও ২০ বছর আগের নর্দাম্পটনের সেই স্মৃতি ঠিকই ফুটে উঠছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মননে। শুধু ক্রিকেটপ্রেমীদের নয়, চিরসস্মরণীয় সেই স্মুতি আজ মাশরাফিদের হৃদয়েও ভেসে উঠার কথা। হ্যাঁ, সেই জয়টির সময় হয়তো বাংলাদেশের এই দলটির কারো অভিষেক হয়নি।

তবে এতদিন জাতীয় দলে খেলার পর আড্ডা-আলোচনায় নর্দাম্পটনের সেই জয় সাকিব-মাশরাফিদের হৃদয়ে গেঁথেই যাওয়ার কথা। সেদিনের সেই জয়টি তো সাধারণ একটা জয় ছিল না, জয়টা ছিল পুরো জাতিকে আনন্দে মাতোয়ারা করার।

তাছাড়া সেদিনের সেই জয়ের অন্যতম দুই নায়ক মিনহাজুল আবেদন নান্নু ও খালেদ মাহমুদ সুজন বাংলাদেশের এই দলটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যাট হাতে সেদিন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪২ রান করা নান্নু বর্তমানে প্রধান নির্বাচক। দলের সঙ্গে তিনি এখন লন্ডনেই। দলের সঙ্গে আছেন বাংলাদেশ দলের ম্যনেজারের দায়িত্বে থাকা খালেদ মাহমুদ সুজনও। অল-রাউন্ড নৈপূণ্যে যিনি সেদিন হয়েছিলেন ম্যাচসেরা।

২০ বছর পর সেই ইংল্যান্ডে, সেই বিশ্বকাপে যখন সেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ, নান্নু-সুজনরাও নিশ্চয় মাশরাফি-সাকিবদের স্মৃতিকাতর করে তুলছেন! কানে গুজে দিচ্ছেন পাকিস্তান বধের মন্ত্র।

মাশরাফিরা পারবেন ২০ বছর আগের নর্দাম্পটনের সেই সুখস্মৃতি লর্ডসে ফিরিয়ে আনতে? পারলে জয় দিয়ে শুরু করা বিশ্বকাপের শেষটাও বাংলাদেশ করতে পারবে জয় দিয়ে। প্রমাণ করা যাবে, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখাটা যথার্থই ছিল। শুধু ভাগ্যের সহায়তা মেলেনি বলেই স্বপ্নটা ধরা দেয়নি!

Facebook Comments