পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে’ তাবিথ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে নানা অনিয়ম, ভোট ডাকাতি, কারচুপির অভিযোগ এনে এবং ভোটের ফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে’ একটি আবেদন দাখিল করেছে উত্তরে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।

সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক উৎপল ভট্টাচার্যের আদালতে এ মামলা করেন তাবিথ।

আবেদনে ভোটগ্রহণে অনিয়মের কথা উল্লেখ করে মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম ও উত্তর সিটিতে নির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলামসহ ৮ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

তাবিথের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেছেন, ‘নির্বাচনে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আজ আদালতে মামলা করেছেন তাবিথ আউয়াল। মামলার বিষয়ে আদালত এখনও কোনও আদেশ দেননি। বিচারক নথি পর্যালোচনা করে আদেশ দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে মানুষ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি। নির্বাচন সঠিকভাবে হয়নি। নির্বাচনে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। আমরা এ নির্বাচন বাতিল চেয়ে নতুন নির্বাচনের জন্য আদালতে মামলা করেছি।’

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলা প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। একইসঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভোটে অনিয়ম, কারচুপির তথ্য-প্রমাণাদিক বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের সামনে তুলে ধরেন তাবিথ-ইশরাক।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, কোনও নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সংক্ষুব্ধ কোনও প্রার্থী বা তার মনোনীত ব্যক্তি চাইলে ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে’ আবেদন করতে পারবেন।

১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। ভোটের পর দিন ২ ফেব্রুয়ারি ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ফলে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার ক্ষেত্রে কোনও সংক্ষুব্ধ প্রার্থী ২ মার্চ পর্যন্ত সময় পাবেন। মামলা দায়েরের পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পতির বিধান রয়েছে। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তিনি চাইলে ‘নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে’ যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করবেন ‘নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে’।

Facebook Comments